রিয়ড অথবা মাসিক, আমাদের সমাজে এখনও এই শব্দগুলো একধরনের ট্যাবু হিসেবেই প্রচলিত। পাবলিকলি এগুলো নিয়ে কথা উঠলেই সবার মধ্যে একটা অস্বস্তি কাজ করে। কিন্তু এটা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কোন কারন নেই। কেননা “পিরিয়ড” নারীদের শরীরের অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সব মেয়েদেরই একটি নির্দিষ্ট বয়সে মাসিক হয়, মাসের ৩-৭ দিন এটা স্থায়ী হয়। এটা খুবই ন্যাচারাল আর এর ফলেই মেয়েরা প্রজননক্ষম হয়। তাই লজ্জা না পেয়ে সচেতন হোন, নিজের সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন আর পিরিয়ডের দিনগুলোতে হাইজিন মেনটেইন করুন। স্যানিটারি ন্যাপকিন সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন তো? চলুন আজ এই ব্যাপারেই আমরা প্রয়োজনীয় কিছু ইনফরমেশন জেনে নেই।
মাসিকের সময়ে পরিচ্ছন্নতা
মাসের এই বিশেষ দিনগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনটেইন করা অনেক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্যাবু হিসেবে ধারনা করা হয় দেখেই এটা নিয়ে আলোচনা কম হয়ে থাকে। তাই অনেকেই হয়তো জানে না যে এই সময় পরিচ্ছন্নতার অভাবে নানা রকমের রোগ হতে পারে। আমাদের দেশে মেয়েদের ইউরিন ইনফেকশন এবং জরায়ুর ক্যান্সার বেশ কমন, আর এটা বেশিরভাগ সময় অপরিচ্ছন্নতার কারনেই হয়ে থাকে। মাসিক চলাকালীন সময়ে খুব সহজেই মেয়েরা রোগে আক্রান্ত হয় শুধুমাত্র অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য। তাই আমাদের সবার উচিৎ পিরিয়ডকালীন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ভালোভাবে জানা এবং সেটা নিয়ে সচেতন থাকা।
স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে কিছু তথ্য
আমাদের সবারই পিরিয়ডের ব্লাড ফ্লো আলাদা, মাসিকের স্থায়িত্বকালও ডিফারেন্ট হতে পারে। বিভিন্ন প্যাড কোম্পানি সেই ফ্লো অনুযায়ী প্যাড তৈরি করে থাকে, যেমন হেভি ফ্লো, ম্যাস্কিমাম ফ্লো, লাইট কভারেজ ইত্যাদি। আবার প্যাডের সাইজও আলাদা হয়ে থাকে ব্র্যান্ড ওয়াইজ। সাধারণত পিরিয়ড ২৫-৩০ দিন পর পর হয় এবং শুরুর দিকে বেশীরভাগ সময় হেভি ফ্লো হয়ে থাকে। শেষের দিনগুলোতে ফ্লো কমে আসে। অন্যদিকে অনেকের আবার দিনের বেলা কম ফ্লো থাকে কিন্তু রাতের বেলা সেই ফ্লো বেড়ে যায়। তো আপনার সুবিধা অনুযায়ী প্যাড সিলেক্ট করতে পারবেন।
পিরিয়ডের সময় হাইজিন মেনটেইন করার উপায়
- ৬-৭ ঘণ্টা পর পর প্যাড বদলাতে হবে, ফ্লো বেশি হলে সাথে সাথে চেঞ্জ করে ফেলুন
- যোনি পথ পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ক্লিন করুন
- একসাথে ২টা প্যাড ব্যবহার করবেন না, প্রয়োজনে বারবার প্যাড বদলাতে পারেন
- সবসময় কমফোর্টেবল ও পরিষ্কার আন্ডারগার্মেন্টস পরিধান করুন। আর ভেজা অবস্থায় পেন্টি ইউজ করা উচিত নয়
সঠিক সময়ে প্যাড বদলাচ্ছেন তো?
এখন তো পিরিয়ডের সময় ব্যবহারের জন্য অনেক পদ্ধতি আছে, যেমন- মেন্সট্রুয়াল কাপ, ট্যাম্পুন। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ মেয়েরাই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কাপড় তো ইউজ করা একেবারেই উচিত নয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। স্যানিটারি ন্যাপকিন বাজারে দেশি-বিদেশি প্রোডাক্ট মিলিয়ে অনেক ধরনের অপশন আছে। তবুও অনেকেই এটার দাম নিয়ে চিন্তিত থাকে বলেই, প্যাড/স্যানিটারি ন্যাপকিন নির্দিষ্ট সময়ের পর বদলাতে চায় না। অনেকে আরও মনে করে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যাড বদলানো অপ্রয়োজনীয়, জাস্ট টিস্যু দিয়ে ইউজ করে কিন্তু এটি একদমই ঠিক না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে কাজে ব্যস্ততার কারনে কেউ কেউ প্যাড বদলানোর সময় পায় না, অথবা প্রয়োজন মনে করে না। কিন্তু এখানেই আমাদের ভুলটা হয়ে থাকে।
পিরিয়ডের সময় প্যাড পরে থাকলে সেটা ৬-৭ ঘণ্টা পর পর বদলানো উচিৎ। কেননা দীর্ঘক্ষণ প্যাড পরে থাকার কারনে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে, এটা থেকে ইনফেকশন হতে পারে, চুলকানি, ফোলাভাব আরও নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। আর দাম নিয়ে যদি বলেন, এখন তো বাজারে বিভিন্ন রেঞ্জের প্যাড পাওয়া যায়। বিদেশি ব্যান্ডের পাশাপাশি দেশেও অনেক ভালোমানের প্যাড তৈরি হচ্ছে, সেটার দামও হাতের নাগালে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনো আপোষ নয়!
স্যানিটারি ন্যাপকিন সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম
অনেক প্যাড উইংস সহ আবার অনেক প্যাড উইংস ছাড়াই হয়ে থাকে। আপনার পছন্দমত একটি বাছাই করে নিবেন। আবার বেল্ট সিস্টেমের প্যাডও পাওয়া যায়।
- সাধারণত প্যাডের পেছনে স্টিকার দ্বারা গ্লু সিকিউর করা থাকে। প্রথমে পেন্টি নিয়ে প্যাডের নিচের স্টিকার খুলে লাগিয়ে নিন।
- এরপর, আপনার প্যাডে যদি উইংস থাকে তাহলে সেটার উপরে থাকা স্টিকারটি খুলে পেন্টিতে ভালোভাবে লাগিয়ে সেটা পরে ফেলুন।
- ব্যস! আর আরেকটি বিষয়। সুতি কাপড়ের নরম পেন্টি পরলে আপনার জন্য সেটা আরামদায়ক হবে। তাই ভালোমানের প্যাড কেনার সাথে সাথে পেন্টি সিলেকশনের সময়ও খেয়াল রাখুন যে সেটা আপনার জন্য কম্ফোর্টেবল হবে কি না!
Blogger Comment
Facebook Comment